শামস শামীম::
চলতি বোরো মওসুমে হাওরের বীজতলা থেকে একমাস আগেই পানি নেমে গেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন বিভিন্ন এলাকার কৃষক। এখন বীজতলা তৈরি করতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন তারা। অন্যান্য বছর এই সময়ে এসে হাওরের পানি নামতে শুরু করলেও এবার এক মাস আগেই হাওরের বীজতলা শুকিয়ে গেছে বলে জানান তারা। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাবের কারণে এমনটা হয়েছে বলে মনে করেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা। তবে সময়ের আগে বীজতলা শুকিয়ে গেলেও এ নিয়ে কৃষি বিভাগ কৃষকদের কোনও পরামর্শ দেয়নি। পরিবর্তিত অবস্থায় কিভাবে বীজতলা তৈরি করবে বা সময়ের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চাষাবাদ করবে সে বিষয়ে কৃষি বিভাগের কোনও পরামর্শ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা।
সুনামগঞ্জ কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় চলতি বোরো মওসুমে ২ লক্ষ ২৩ হাজার ৫২১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখনো উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়নি। বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার ৪৬৮ হেক্টর। প্রতি বছর কার্তিক মাসের শেষ দিকে সাধারণত বীজতলার পানি নামতে শুরু করে এবং কৃষক তখন থেকে বীজতলা তৈরি করেন। কিন্তু এ বছর গত মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই বীজতলা থেকে পানি নেমে শুকিয়ে গেছে অনেক এলাকার বীজতলা। দেখা গেছে পানির অভাবে বীজতলায় এখন গরু ঘাস খাচ্ছে। এই অবস্থায় দিশেহারা কৃষকদের কেউ কেউ আগাম (আগল) বীজতলা তৈরির চেষ্টা করছেন। কেউ বলছেন আগাম বীজ রোপণ করলে চাষাবাদের পর ধানের ক্ষতি হবে। এতে ফলনে প্রভাব পড়বে। তাই দোটানায় আছেন লাখো কৃষক। হাওরের কৃষকরা দোটানায় থাকলেও কৃষি বিভাগ এই সংকট মোকাবেলায় তাদের কোনও পরামর্শ দিচ্ছে না বলে অভিযোগ কৃষকদের।
কৃষকরা জানান, তারা সাধারণত প্রতি বছর নভেম্বরের শেষদিকে বীজতলা তৈরি করেন। কিন্তু এ বছর অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকেই বীজতলা শুকাতে শুরু করেছে। বেশিরভাগ হাওরের বীজতলাই শুকিয়ে গেছে। এখন বীজতলা প্রস্তুত করতে পানির সংকটে পড়েছেন তারা। তাহিরপুর উপজেলার কালাশ্রীপুর গ্রামের কৃষক মো. আকবর আলী বলেন, আমাদের হাওরের বীজতলা ২০-২৫ দিন আগে শুকিয়ে গেছে। এখন সবুজ ঘাসে রূপ নিয়েছে। গবাদিপশু বীজতলার ঘাস খাচ্ছে। অন্যান্য বছর আরো পরে শুকায় এবং আমরা নভেম্বরের শেষ দিকে বীজতলা তৈরি করে বীজ ছিটিয়ে দেই। একই উপজেলার পাটাবুকা গ্রামের কৃষক জুনায়েদ আহমদ বলেন, আমাদের এলাকার হাওরের বীজতলার পানি নেমে গেছে। এ বছর আগেভাগে পানি নেমে গেছে। এই অবস্থায় আমাদের কৃষকদের কেউ কেউ আগাম বীজতলা তৈরি করেছেন, কেউ কেউ মওসুমের উপযুক্ত সময় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমরা এই সমস্যার মধ্যে থাকলেও কৃষি বিভাগ এই বিষয়ে কোনও পরামর্শ দিচ্ছেনা। এখন প্রতিনিয়ই হাওরের কৃষকরা এমন নতুন নতুন সংকটের মুখে পড়ছেন বলে জানান তিনি।
সুনামগঞ্জের হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সহ সভাপতি শাহ কামাল বলেন, আমি তাহিরপুরের দুর্গম হাওরে কাজ করি। নিজে দেখেছি হাওরের বীজতলার পানি অনেক আগে নেমে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের ফলেই প্রকৃতিতে এমন ঘটনা ঘটছে। পরিবর্তিত এই অবস্থায় কৃষকরা উপযুক্ত পরামর্শ পাচ্ছেন না বলে আমাদের অভিযোগ করেছেন।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, পানি কিছুটা আগে নেমেছে এটা সত্য। তবে এতে বীজতলা তৈরি ও চাষাবাদে তেমন প্রভাব পড়বেনা। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে কৃষকদের নানা বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন বলে জানান তিনি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মওসুমের এক মাস আগেই শুকিয়েছে বীজতলা, বিপাকে হাওরের কৃষক
- আপলোড সময় : ০৩-১১-২০২৬ ০১:৫৫:২২ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৩-১১-২০২৬ ০১:৫৮:২৫ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ